গ্যাস সংকটে ভোগান্তি
এলএনজির ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামতে আসছে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৪-০৭-২০২৬ ০১:২৯:২২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-০৭-২০২৬ ০১:২৯:২২ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
স্বাভাবিক সময়ে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এতে দেশের প্রধান গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে অন্তত ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সেই পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পুরো ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
গ্যাসের সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। পর্যাপ্ত গ্যাসচাপ না থাকায় অনেক স্টেশনে মেশিন চালু রাখা যাচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক যানবাহন গ্যাস নিতে পারছে না।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য মো. ওয়াহিদ খান বলেন, সাধারণত স্টেশন পরিচালনার জন্য ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ পিএসআই পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। গত দুই-তিন দিনে অনেক সময় চাপ ২ পিএসআইয়েরও নিচে নেমে গেছে। এতে মেশিন চালু করলেই তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না এবং স্টেশনের সামনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদেরও সেবা দেয়া যাচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত টার্মিনালটি সচল করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অপারেশন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশে রয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে এসে কাজ শুরু করবেন। তাদের সহায়তায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান সংকট দেশের এলএনজি অবকাঠামোর একটি বড় দুর্বলতা সামনে নিয়ে এসেছে। মাত্র দুটি ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল থাকায় একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলেই পুরো গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে এ নির্ভরতা কমিয়ে স্থলভাগে নির্মাণাধীন এলএনজি টার্মিনালগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, স্থলভাগের এলএনজি টার্মিনালের আয়ুষ্কাল সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর। দীর্ঘমেয়াদে এর মূলধনী ব্যয় ও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কম হয়। পাশাপাশি পরিচালনাগত নমনীয়তাও বেশি থাকে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থলভিত্তিক টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু এলএনজির ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং অবকাঠামো বহুমুখীকরণের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই একটি টার্মিনালে কোনো সমস্যা দেখা দিলেও জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে না।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স